লাঙলের ফলা ও মাটির শরীর
দরজা জানালা বন্ধ ঘরে ছায়া জমে জমে
বাড়িটাকে মৃত্যুপথযাত্রী এক বৃদ্ধ হয়ে যেতে দেখা যায়,
এখানে যে কৃষকের পরিবার ছিল তারা
বীজের সন্ধানে গিয়ে আজো ফিরে আসেনি অথবা কোনো
খবরাখবর নেই বা কেউ রাখেনি।
এখনো রাতের চাঁদ আকাশের অন্ধকার দূর করতে গিয়ে
শেওলা ধরা ছাদে উঠে পাগলের মতো নগ্ন হয়। তার গা থেকে তখন
প্রবীণ ঘোড়ার সাদা লোমের রঙের জ্যোৎস্না দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ে,
একটি বুড়ো গোরু তার কঙ্কালে হাড়ের ক্ষয়
হয়ে যাচ্ছে মনে করে নিজের করোটি দিয়ে
তুলে ধরে চাঁদের কলঙ্করেখা।
রোজ প্রাগৈতিহাসিক এক ষাঁড়
পুরোনো যুগের চারপাশে জন্ম নেওয়া আগাছার
ভিতর লুকিয়ে ওই গোরুটির দিকে চেয়ে
নিজের শিশ্নের গাঢ় যন্ত্রণা ও ব্যথা অনুভব করে, তবু
রিরংসায় বার বার শীর্ষভাঙা শিং-দুটি দিয়ে গুঁতো মারে মাটির শরীরে,
শিশ্নের প্রগাঢ় ব্যর্থতার কথা সে মাথায় রেখে মরা ঘাস খায়
আর ভাবে জমিটা কীভাবে বন্ধ্যা হয়ে গেল
মরচে ধরে ভোঁতা হল লাঙলের ফলা।

No comments:
Post a Comment