নদী
নদী, বয়ে নিয়ে চলো সন্ত্রাস
যার কাছে সামান্য স্থির , ঝুঁকে পড়ে নিঃশব্দে
তার ঠোঁটে প্রয়াত সূর্যাস্তের মতো চুমু, চুলের গন্ধে
শেষরাতে তার কাছে অস্ত্র সমর্পণ, তবু অনুরোধ ফেলে
ভোরের খানিকটা আগেই বেরিয়ে পড়া
পেরিয়ে আসা পাহারা বসানো সব সীমান্ত
যেহেতু গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আছে, তাই ধ্বংস,
তাই সকল কামনাবীজ তোশকের নীচে
নরম শরীরে ছেড়ে আসা, আমি কি ফিরতে পারব
চিরদিন এই উপত্যাকায় ? বরফের চাঙড় ভেঙে
আমারও সন্তান সূর্যকে বেছে নেবে, সবুজ চিনবে,
রাষ্ট্র তাকে রাইফেল দেবে না কখনও, পাঠাবে না
টিলার ওপারে, নাশকতা দমনে, কফিনে
নদী, রক্ত তোমার অমরায় তিলেতিলে বাড়ে
তুমি তাকে পাথরে, মাটিতে, পলিতে বড় করে তুলেছ
সে যদি ফেরৎ যেতে চায় ? সে যদি মেতে ওঠে সর্বনাশে ?
ইন্ধন পেয়ে যদি ভুলে যায় মাকে ? পিতৃহত্যা করে বসে ?
সে যদি খুঁজে ফেরে মৃতের বাসনা ? পলাতক পরিচয় ?
আমরা তো লোভের শিকার, আমরা তো অনিশ্চয়তার রাতে
বিছানায় আকাশকে টেনেছি, গ্রহনক্ষত্রে ঘটেছে
আমাদের দৃষ্টি বিনিময়, দেওয়ালেও বিষের ছত্রাক
নদী, লেখো মর্মরকথা, যা বিশ্বাসহীন, যা ছুঁতে
মানুষের সর্বস্ব ভেসে যায়, দুষ্প্রাপ্য আঘাতে
সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকুক আমার অস্তিত্ব, গ্রন্থাগার--
দায়দাস ছেড়ে ব্যাধিমুক্তির দিকে ছুটুক আমারও হাভাতে সন্তান

No comments:
Post a Comment