Wednesday, 19 February 2020

সৈকত ঘোষ








চিচিংফাঁক



শর্ট১:
প্রতিটা কুচুমুচুর পর প্লেট থেকে প্লেটে ঘুরতে থাকে বাপে তাড়ানো মায়ে খেদানো বাংলা ভাষা। আমরা হাঁটু পর্যন্ত তালপাতা, নদী মাতৃক কুকুর কুণ্ডুলি। আলোচনায় উঠে আসেন দুলাল চন্দ্র ভর। দেবদাস সেজে ভালোই দেবভাষা রপ্ত করেছেন বুলেট পঞ্চু। এসব দেখে সূর্যের করুণা হয়। অনুলোম বিলোমে চরণ ধরিতে দাও গো আমায়...


শর্ট২:
অক্ষর চৈতন্য লাভ করুক কিংবা চৈতন্যে অক্ষরবৃত্ত। সপাটে বাউন্সার আছড়ে পড়ুক এলিট হেলমেটে। আমরা সূত্রে তাপোবন, চশমায় সাবঅলটার্ন। পাঠ্যপুস্তকে ছেয়ে যায় কুসংস্কার দেয়াল। আজ অলিপাব থেকে পদযাত্রা শুরু হবে। তাঁর বিদেহী আত্মা গেয়ে উঠবে পোস্টমডার্ন টুনির মা। নিরুদ্দেশ প্রাপ্তির বিজ্ঞাপনে পাসপোর্ট ছবি সহ ছাপা হবে বিদ্যাসাগরের বায়োডাটা। আমরা কবাডি কবাড়ি, আমরা পাছাকাটা জিন্স। উড়ালপুল থেকে সুসময় ঝাঁপ দেওয়ার আগে গিটার কাঁধে দিনবদলের গান শোনাবেন সময়ের হার্টথ্রব অনুপম...

শর্ট৩:
আজকাল চিনিকাটা রসগোল্লা সিগনেচার হয়ে গেছে কলকাতার। ছোট্ট টিপ হালকা লিপস্টিক আর মোহিনীমোহনে বাংলা কাঁপাচ্ছেন বনলতা সেন। আমি বুক-পকেটে বৃষ্টি আর পাউচ খুললে পাওলি। হানিবানি অন্তত আজকের জন্য একটা সুগার কিউব চলবে?

শর্ট৪:
বাঙালির জাতিস্মর নেই, আছে চাইনিস ডল। কতটা স্বাধীন হলে পা থেকে মাথা পর্যন্ত চকচক করে আনুগত্য। পরিসংখ্যান বলছে কপালে বিপ্লবের কাটা দাগ না থাকলে এন আর আই বাঙালির সিভির ওজন বাড়ে না। আজকাল বিপ্লবের ম্যানিফেস্টোতে চোখ টিপে হাসে দামি সিঙ্গলমল্ট। আরে দাদা গান্ধীজি ওপেনার ছিলেন, আমরা নিছক টেল এলেন্ডার

শর্ট৫:
অত উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই। বাঘ আর গোরু আগেও এক ঘাটে জল খেয়েছে, ঠেলায় পড়লে ভবিষ্যতেও খাবে। মধ্যবিত্ত জীবন পদধূলিতেই সন্তুষ্ট। ডিম আগে না মুরগি এই নিয়ে যুদ্ধ চলুক- আমরা মন্দিরে কাঁসর ঘন্টা বাজাবো আর সেই শব্দের প্রাবল্য তীক্ষ্ণতা নিয়ে লেখা হবে হাজার একটা থিসিস। মাই ডিয়ার মাসিমা মেসোমশাই এটা ফেসবুক যুগ, এখানে জিডিপি নয় টিআরপি কথা বলে...

No comments:

Post a Comment

একনজরে

সম্পাদকীয় - ' রাষ্ট্র মানি না নিজের ভাষাকে ভুলে'

' দরকার পড়লে আমি খুব প্রাদেশিক/ রাষ্ট্র মানি না নিজের ভাষাকে ভুলে' - বলেছেন কবীর সুমন। সত্যি কথা বলতে কী, রাষ্ট্র-এর ধারণাট...

পাঠকের নজরে