আমি দাঁড়িয়ে আছি
চলে যাচ্ছে ব্যস্ত সময়। আমি দাঁড়িয়ে আছি তবু। দুটো হাত
জড়ো হয়ে আছে গাছের মতো। শেকড়ের টান!
কে যেন চেপে ধরছে পা। মাটির শরীর ভেঙে যাচ্ছে। চাপ লাগছে তাও চেঁচাচ্ছি না। চুপ থেকে থেকে বোবা হয়ে গেছি। ঝাঁকিয়ে বসছে শীত। দুপায়ে জমাট বরফ। তবু
দাঁড়িয়ে আছি।
ছোট ছোট অলি গলি শিরা উপশিরার মতো ছড়িয়ে গেছে। হুস হুস করে পেরিয়ে যাচ্ছে জীবন। মৃত্যুভয় নেই। চারদিকে শুধু আগুন। কেরোসিন গন্ধ।
ফ্যাকাশে চোখে দেখি, কিভাবে রাতের নাম হয় রোদ্দুর। কিভাবে রোশেনারা রজনীগন্ধা হয়ে ফোটে। কিভাবে শৈশব, হাত পা কাটা! দাঁড়িয়ে দেখি।
প্ল্যাটফর্মের ওপাশে, একা। পুরোনো স্টেশন, শহরটার মতোই আজ নিস্তব্ধ, প্রাক্তন। বৃষ্টি নামলে তারপর, ভিজে মাটি, মায়ের মিঠে গলা!
মুখের ম্লান হাসিটা ঠিক জ্যোৎস্নার আলো। দুটো চোখ ভাঁটার জলে ভাসা ডিঙি। কতকি বোঝাই তবু নিঃসঙ্গ, বড়ো একা।
বরফের মতো জমাট দু'পা। শীত ঝাঁকিয়ে বসছে ক্রমশ। শুধু লিখছি আর লিখছি। পুরোনো প্রেমের কথা আজকাল মনে পড়লে ভালো লাগে। আতরের গন্ধ ছড়ায়।
জল আসে না। ভয় লাগে না আর। শুধু দেখি, বুকের ভেতর টলমল করে রক্তনদী। রজস্বঃলা নারীর মতো কাতরাই। ভেসে যায় চর, রক্তফেনায়!
২.
দেবদারু গাছকে
বড়ো বিষণ্ণ লাগে। আজকাল ঘুম ভেঙে যায়।
দেবদারু পাতার মতো এলোমেলো চুল
ছিনিয়ে নেওয়ার মতো রাজার মেজাজ
আটকে রাখার মতো দীর্ঘ পুরু ঠোঁট
ঘুম ভেঙে যায়!
থুতনির নীচে কাটা দাগ পড়ে। দাঁতের ভেতর
শিরশির করে হাওয়া। নিঃশ্বাস ঘন হয়।
মজে যায় খেজুরের রস।
আজকাল বিষণ্ন লাগে !
কোন পরিত্যক্ত স্টেশনের পাশে একা হয়ে
থাকা শিমুল কিংবা রেললাইনের ধারে পড়ে থাকা রোদ, কেও দেখেনি যাদের কোনদিন
কোনদিন ছোঁয়নি কোন হাত
হঠাৎ যদি তারাই দীর্ঘজীবী হয়,
তারাই হুকুম চালায় একছত্র বসন্তের ওপর
আনন্দে, শিহরনে ঘুম আসে না যেমন
তেমনই হাওয়ায় দেবদারুর পাতা নড়ে উঠলে মনে হয়, দরজায় নতুন অতিথি এসেছে বোধহয়!

No comments:
Post a Comment