কৃষ্ণছায়া ১৭
স্পর্শ খুলে যাচ্ছে ; যেন তবু হারিয়ে যাচ্ছো না চেতনায় । সকালে ঘুম ভাঙে না আমার, ঘুমের মতন করে ঘুমোতে পারি না রাতেও। রাতের কাছে রাখতে পারি না নিজের বেদনা ; বালিশের উপর সিলিং...বালিশের নিচে প্রেমচলাচলের বর্নমালা বাঁদিক থেকে ডানদিক সরে যায়।
রাস্তার মোরে ভবঘুরে একটা শহর, বসন্তের মতন সঠিক সমীকরণে একটা পরিচিত সুগন্ধি-বায়ু। কে কখন হারিয়ে যায় অভাবে ; আবার অভাববোধের কাছেই পরে থেকে ভালোবেসে যায় কতজ'ন ; হিসেব নেই।
হিসেবের বন্দিশে ফন্দি রাখতে নেই সাহাব ; চোখের আড়ালে রাখতে নেই চুম্বনের গোপন ইচ্ছেসংকলন। ভবিষ্যতের জার্নালে যারা রাখছে অবক্ষয় তারা হেঁটে দেখতেই পারলো না পথের ভেতর লালিত ভালোবাসা। মাটির ভেতর নরম স্বাদের শীত-সংক্রান্ত নিস্তব্ধতা...অরাজক পরিস্থিতিতে একটা হাত এগিয়ে দাও। বুকের ভেতর থেকে কাছে টেনে নাও পরিচিত কবির দুঃখকাহন।
অবয়বে নেই দৃঢ়তা ; বিদ্বেষ থেকে চুরি হয়ে যাচ্ছে মনখারাপের অবগুণ্ঠন। রূপান্তর হয়ে যাচ্ছে করিডরের চারটে দেওয়াল ; হিংসের আড়ালেও কতজন স্নেহের প্রতিশব্দ ভুলে গিয়ে তছনছ হয়ে যায় বারবার।
স্থায়ীত্বে তোমার মাথা রাখো ; আজ রাতে চুলের গোছে লুকিয়ে রাখবো অক্ষর ; অক্ষত বিদায় সংলাপ। চুল গুলো কপাল বেয়ে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে প্রিয় ; আমি তবুও আঙুলের সহজতা বুলিয়ে দিতে পারছি না। তোমার নিশ্বাস নেমে যাচ্ছে না কলারবন্ধ গলা বেয়ে ; শিহরিত রোমকূপে তারিখের ওজন বেড়ে উঠছে ক্রমশ...
আমার গাড়ির লুকিং গ্লাসে দেখতে পাই না যে প্রতিচ্ছবি দুদিন যাবত ; তার জন্যেই বুকের ভেতর ভাসমান সমুদ্র লিখছি। সমুদ্রের ভেতর নুড়িদের গপন কারনামা। কারনামায় সন্তর্পণে দূরত্ব মাপি...সময়ের পরিসরে দীর্ঘ আলাপচারিতা ; প্রেমের সংস্পর্শে অদৃশ্য টানের ভ্রান্ত উপলব্ধি।
ব্যালকনিতে এসে দাঁড়িয়ে থাকে অপেক্ষা ; মোরের মাথায় দাঁড়িয়ে নিস্ফলক তাকিয়ে দেখছি একটা বিষন্ন রঙ ; উড়ে যাচ্ছে একটা অভ্যাস। পাতাঝরা মরশুমে চলে যাওয়ার একটা সময়মেঘ আমার বুকের আদল পালটে দিচ্ছে ; হৃদয়ের গভীরে তোমায় লালন করছি ; স্পর্শের দাগে রেখে গেলে কৃষ্ণশুন্যতা...

No comments:
Post a Comment